আমায় প্রথম

আমায় তুমি রেখো; তোমার পাশেই রেখো।
মন খারাপের মুহূর্ততে আমায় প্রথম ডেকো।
আমায় তুমি লেখো; তোমার কথা লেখো।
চোখ খুলেই প্রথম তুমি আমার লেখা দেখো।

হে রাগী

তোমার রাগের ফলে রাস্তায় জ্যাম,
জ্যামে বসে করে যাই ধৈর্যের ব্যায়াম।
ভেঙে ফেলো রাগ! কাটো অভিমান!
জ্যাম ছুটে সড়কে চলুক বিমান!
তোমার রাগের ফলে সূর্যটা ক্ষ্যাপা,
প্রচন্ড উত্তাপে জান দফা-রফা।
ভেঙে ফেলো রাগ! ভুলো অভিমান!
সূর্যটা ঢেলে দিক হিম অবিরাম।
হে রাগী! অভিমানি!
তোমার রাগে; ঢালো পানি!

চাকরি

ভাত খেয়ে সিড়ি বেয়ে উঠি সাত তলা,
বিদ্যুৎ চলে গেছে দুপ্পুর বেলা।
কী জ্বালা! কী জ্বালা!
সকালেও একই হাল, লিফট ছিলো নষ্ট।
জানজট পারি দিতে কীযে হলো কষ্ট!
হে ঢাকা! হে ঢাকা!
সম্মুখে ডেড লাইন, ক্লায়েন্ট হৈ চৈ,
কর্তার হুকুমে পাকা ধানে দেই মই।
কী মজা! কী মজা!

তুমি

তুমিতো তুমিই! যা'ই বলে ডাকি।
তোমাতেই দিন ভর করি মাতামাতি।
'তুমিতে' যদি মন বোধ করে ভালো,
'তুমিতে' ক্ষতি কী, 'তুমি' বলি চলো।
তোমার মায়া আর তোমার ছায়ায়,
আহা কী যে সুধা! জড়ায় আমায়।
থেকো তুমি ছায়া হয়ে, মায়ার চাদর,
তৃষ্ণার জল তুমি, বোনের আদর।

বর্ণবাদ

কালো রঙা তরুণী কাঁদে রোজ রোজ,
কালো বলে কেউ তার করে নাকো খোজ।
মানুষের ভালো লাগে কালো রঙা চুল।
তবু কেন সাদা দেহ পাইতে ব্যাকুল?
তরুণী ভেবে যায়; রঙটাই সব?
মূর্খ এ সমাজের আদিম স্বভাব!
কালো মেয়ে লিখে যায় পদ্য-গান,
কালো সাদা বিভেদের করো অবসান!

ঐ দেখা যায় সংসদ

ঐ দেখা যায় সংসদ, ওই আমাদের দেশ।
ঢুকলে সেথায় ভালো মানুষ, দেশটা হতো বেশ!




বিষণ্ণতা

বিষণ্ণতার ওষুধ আছে? মন খারাপের?
এক পাতা দাও, না না দুই পাতা দাও!
না হয় একটা কাজ করো ভাই, স্যালাইন লাগাও,
শিরাতে নয়, হাড়ের ভেতর।
বুঝলে ভ্রাতা?!
বিষণ্ণতা! আহা, বিষণ্ণতা!
বিকেল এলেই, ঝাপ্টে ধরে।
হয়নি তোমার? কোনো কালে?
তাহলে আর বুঝবে কি তা!
কঠিন অসুখ, বিষণ্ণতা।
তখন ভীষন একলা লাগে, হৃদয় জুড়ে কান্না জাগে।
হ্যা! হ্যা! অকারনেই কান্না জাগে।
দম আটকায়, মন আটকায়, ওষ্ঠাগত হয় হৃদয়।
তারপরেকি! চুপ হয়ে যাই। ভাল্লাগেনা ধুত্তুরি ছাই!
তোমার কাছে, ওষুধ আছে?
সুই দিয়ে দাও। কিংবা বড় স্যালাইন লাগাও।
শিরাতে নয়, হাড়ের ফাঁকে, বিষণ্ণতার দূর্বিপাকে।