আবার যদি

দুঃখ গুলো, দুঃখ পেয়ে, হারিয়ে যায় যদি,
একুল ওকুল দু’কূল ভাঙা, কষ্ট ভরা নদী।
হারিয়ে যায়, শুকিয়ে যায়, লোনা জলের হ্রদ,
স্বপ্নগুলো সবুজ হয়ে নতুন চাষাবাদ।
আবার যদি ফিরে আসে, পুরানো সেই দিন,
স্বপ্ন বোনার দিবসগুলো স্মৃতি অমলিন।
আবার যদি ফিরে আসে, ঝগড়াগুলো যতো,
শাসন-বারণ আগের মতোই, চলতো অবিরত।
আবার যদি সন্ধ্যা আসে, জোৎস্না ভরা চাঁদ,
গল্প কথায় ক্ষণ ফুরাতো, সাঙ্গ হতো রাত।

কবি মন

কবিরওতো হৃদয় আছে,
রক্ত আছে, মাংস আছে,
ছোট একটা মন আছে,
সেই মনেতে সুখ আছে,
অনেকগুলো দুঃখ আছে।
কবির আছে অনুভূতি,
একলা ভীষণ রাত নিশুতি।
কবির চোখেও বৃষ্টি ঝড়ে,
হৃদয় ভাঙে তীব্র ঝরে।

তোমারতো মা আছে

তোমারতো মা আছে, আছে মায়ের ওম।
মায়ের বুকে মাথা রেখে, চুপটি করে ঘুম।
তোমারতো মা আছে, গল্প করার সই,
মায়ের কাছে তোমার হৃদয়, একটা খোলা বই।
তোমারতো মা আছে, নিচ্ছে তোমার খোঁজ
মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে বর্ষা ঝড়াও রোজ।
একটু ভাবো, যে মালাটি একলা পড়ে রয়,
বিষন্নতায় যে মালাটি সুরভী ছড়ায়।
যে মালাটি মলিন ছিলো, ম্লান ছিলো রঙ,
এই শহরের ইট পাথরে, কান্না তাহার ঢং।
তোমার খোঁপার শোভা হবে, সেই মালাটি তাই,
মলিন মালা উঠলো খোঁপায়, খোঁপার বাধন নাই।
তোমার খোঁপা খুললো বলে, দুঃখ তোমার খুব,
সেই মালাটি নিরব ছিলো, কান্নারা সব চুপ।
তোমারতো মা আছে, দুঃখ যখন খুব,
মায়ের বুকে মাথা লুকাও, মাও তখন চুপ।
একটু ভাবো যে মালাটি, একলা পড়ে রয়,
ইট পাথরের এই নগরী, আপন কেহ নয়,
সেই মালারও অশ্রু আছে, সাত সাগরের জল,
মায়ের আচল খুঁজে ফিরে, মুছতে নয়ন ঢল।


আজ গল্প করার দিন

আজ তোমার আমার গল্প করার দিন,
এ কটা দিন ছিলাম একা, ভালোবাসাহীন।
তুমি ছিলে সারাটা দিন, সঙ্গোপনে মনে,
চুপি চুপি কত কথা, কইছি তোমার সনে।
রাত্রি গুলো একলা ছিলো, বিষন্নতা মাখা,
মানসপটে তোমার ছবি, হৃদয় জুড়ে আঁকা।
পূর্ণিমাতে যখন হবে আকাশ জুড়ে চাঁদ,
এমন সময় থাকবে পাশে, আমার বড় সাধ।

আজ তোমার আমার গল্প করার দিন,
এ কটা দিন ছিলাম একা ভালোবাসাহীন।
আজ কইতে কথা লজ্বা কেনো পাই,
তোমার মনে আমার দখল, আগের মতো নাই?
ভয় পেয়ে যাই, বড্ড বেশি, যখন তোমায় ভাবি,
তোমার হাতে রয়ে গেছে আমার মনের চাবি।
যাওনিতো হায় আমায় ভুলে, অল্প কটা দিন,
দূরে ছিলাম আমরা দু’জন, তুমি আমিহীন।

আজ গল্প করার দিন, আজ কাব্য বলার দিন,
এ কটা দিন ছিলাম একা ভালোবাসাহীন।

দ্বিধান্বিত তুমি

দ্বিধান্বিত মনটা তোমার, দ্বিধান্বিত তুমি,
সকাল বেলা ভালোবাসো, বিকেল বেলা খুনি।
সন্দেহটা বড্ড বেশি, প্রশ্ন করো সোজা,
প্রশ্ন শুনে ভয় পেয়ে যাই, আমি যেনো বোঝা!
হঠাৎ প্রবল ভালোবাসো, আবেগ চোখের জল,
এইতো আবার পালটে গেলে, সন্দেহেরই ঢল।
আচ্ছা বলো এমন কেনো, আমি যেনো পর,
তোমার কথায় আঁধার হলো, আমার সোনার ঘর।

কিসের তামান্না

রাত্রি যখন গভীর হলো, দুচোখ জুড়ায় নিদ,
একটা পরী ঢুকলো মনে, কাটলো গোপন সিঁদ।
কাঁদলো পরী চুপিসারে, বললো অনেক কথা,
পরীর মনের গোপন কোণে, আমার স্বাধীনতা।
বললো পরী সঙ্গোপনে, তোমায় আমার চাই,
কোথায় যেনো বাজলো বাঁশি, আমার কথাও তাই।
হাসলো পরী অবশেষে, বললো উপায় কি?
অনেক বড় হবে তুমি, স্বপ্ন দেখেছি।
কিন্তু তুমি নিঃস্ব এখন, ভাঙা তোমার খাট,
পকেট তোমার ধু ধু করে, তেপান্তরের মাঠ।
চেষ্টা করো খুব দ্রুত, তোমার অপেক্ষায়,
সকাল, দুপুর, সন্ধ্যাগুলো, একলা কেটে যায়।
ভাবছি এখন কি করা যায়, কোথায় আমি ছুটি!
খাওয়া-দাওয়া চুলোয় গেলো, ভাত, বিরানি, রুটি।
ভাল্লাগেনা, মুখ রোচেনা, বুয়ার এই রান্না,
হৃদয় মাঝে উঠলো জেগে, কিসের তামান্না!