গণপরিবহনে বিড়ম্বনা

ছোট বেলায় বাসে উঠলে প্রায়ই দেখতাম ভাঙাচোরা ক্যাসেট প্লেয়ারে ওয়াজ মাহফিল চালিয়ে দিচ্ছেন বাস ড্রাইভার। ওয়াজ শুনতে শুনতে গন্তব্যে পৌছে যেতাম। ওয়াজ শুনে আমাদের আত্মা পরিশুদ্ধ হতো, বাস ড্রাইভার অর্জন করতেন আল্লাহর সন্তুষ্টি। এ ধরণের ড্রাইভারকে সাধারণতো যাত্রীরা সম্মানের চোখে দেখতো। চালকের ভুল ত্রুটির জন্য গালি দিতে গিয়েও সঙ্কোচ হতো।

এখন আমরা আধুনিক হয়েছি, যাত্রী সেবার মান উন্নত হয়েছে, গণপরিবহনে যুক্ত হয়েছে এলসিডি মনিটর। মনিটরে অবিরাম প্রদর্শিত হচ্ছে হিন্দি গান, গানের সাথে চলছে অর্ধনগ্ন নায়ক-নায়িকার অশ্লীল সব অঙ্গভঙ্গি। মা-বাবার পাশে বসে সে দৃশ্য গিলছে শিশুরা, কলেজ পড়ুয়া মেয়ের পাশে বিব্রত বাবা, সন্তানের পাশে বিব্রত মা, বিরক্ত অসুস্থ মানুষ, নির্বিকার আম জনতা। ব্যাকগ্রাউন্ডে ইবলিসের অট্টহাসি!

এদৃশ্য চেঞ্জ হতে পারে, পরিবহন মালিকরা এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারেন। সমাজে তাবলিগের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাবলিগের পক্ষ থেকে পরিবহন চালক-শ্রমিকদের মাঝে সচেতনতামূলক দাওয়াতি তৎপরতা চালানো যেতে পারে। মসজিদের ইমাম-খতিব সাহেবরা তাদের বয়ানে এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। আর সর্বোপরি নিজ নিজ অবস্থান থেকে যাত্রীরা প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

যদি যাও ভুলে

যদি যাও ভুলে
রাস্তাটা পোড়াবে ভীষণ,
শন শন বাতাসের অবিরাম ক্রন্দন,
পোড়াবে ভীষণ।
যদি যাও চলে
নি:সঙ্গ ঝিল পাড় পোড়াবে ভীষণ।
হাত ধরে পারাপার, মানুষের মুখগুলো
পোড়াবে ভীষণ।
আহা! মেখে দিলে কী রঙ জীবনে!
এ রঙ পোড়াবে ভীষণ।

বাকি থাকে তত

তোমায় লিখি যত, বাকি আরো তত,
কে আর আমায় ভালোবাসে, তোমার মতো এ্যাতো?
তোমায় দেখি যত, বাকি থাকে ততো,
তৃষ্ণা আমার মিটবে কিসে, তোমায় দেখার মতো!

মায়াবিনী তুমি

মায়াবিনী তুমি, মায়াময় মুখে; মমতার রং মাখা।
সবুজ ছুঁয়েছে যেন, কোমল মুখেতে ওই ভালোবাসারা আছে আঁকা।
হেসেছো যখনি, সেজেছে ধরণী, তোমার মনের আলোয়।
সরল হাসিতে, অবাক চোখেতে, থমকে দাঁড়ায় প্রলয়।
আমি দেখি! চোরা চোখে! কী মায়া, ওই মুখে!
ভালোবাসি, পাশে আছি! তুমি থেকো; দুখে, সুখে!

আমায় দিলাম তোমায়

আমায় দিলাম তোমায়,
তুমি কিনলে আমায় মায়ায়।
তুমি বাসো বলে ভালো,
আমার হৃদয় জোড়া আলো।
তুমি; তোমায় দিও আমায়,
তোমার মায়া আমায় জড়ায়।
আমার আকাশ জুড়ে তুমি,
সেথায় উড়াই ঘুরি আমি।
তোমার আকাশ আমার হোক,
আমার তৃষ্ণা কাতর লোভ।
তুমি অনেক বেশি ভালো।
তোমায় বড্ড বাসি ভালো।

প্রিয়

স্নেহের পরশ দিচ্ছ, দিও,
ভালোবাসা নিও।
লিস্টিতে মোর প্রথম তুমি,
সবচাইতে প্রিয়।

কামলা

কাজ, কাজ, কাজ,
রাত জাগবো আজ।
কামলা মোরা দিবানিশি,
কাজকে ভীষণ ভালোবাসি,
আমরা কাজের রাজ!
কাজ, কাজ, কাজ,
কাজ, কাজ, কাজ।

আমায় প্রথম

আমায় তুমি রেখো; তোমার পাশেই রেখো।
মন খারাপের মুহূর্ততে আমায় প্রথম ডেকো।
আমায় তুমি লেখো; তোমার কথা লেখো।
চোখ খুলেই প্রথম তুমি আমার লেখা দেখো।

হে রাগী

তোমার রাগের ফলে রাস্তায় জ্যাম,
জ্যামে বসে করে যাই ধৈর্যের ব্যায়াম।
ভেঙে ফেলো রাগ! কাটো অভিমান!
জ্যাম ছুটে সড়কে চলুক বিমান!
তোমার রাগের ফলে সূর্যটা ক্ষ্যাপা,
প্রচন্ড উত্তাপে জান দফা-রফা।
ভেঙে ফেলো রাগ! ভুলো অভিমান!
সূর্যটা ঢেলে দিক হিম অবিরাম।
হে রাগী! অভিমানি!
তোমার রাগে; ঢালো পানি!

চাকরি

ভাত খেয়ে সিড়ি বেয়ে উঠি সাত তলা,
বিদ্যুৎ চলে গেছে দুপ্পুর বেলা।
কী জ্বালা! কী জ্বালা!
সকালেও একই হাল, লিফট ছিলো নষ্ট।
জানজট পারি দিতে কীযে হলো কষ্ট!
হে ঢাকা! হে ঢাকা!
সম্মুখে ডেড লাইন, ক্লায়েন্ট হৈ চৈ,
কর্তার হুকুমে পাকা ধানে দেই মই।
কী মজা! কী মজা!

তুমি

তুমিতো তুমিই! যা'ই বলে ডাকি।
তোমাতেই দিন ভর করি মাতামাতি।
'তুমিতে' যদি মন বোধ করে ভালো,
'তুমিতে' ক্ষতি কী, 'তুমি' বলি চলো।
তোমার মায়া আর তোমার ছায়ায়,
আহা কী যে সুধা! জড়ায় আমায়।
থেকো তুমি ছায়া হয়ে, মায়ার চাদর,
তৃষ্ণার জল তুমি, বোনের আদর।

বর্ণবাদ

কালো রঙা তরুণী কাঁদে রোজ রোজ,
কালো বলে কেউ তার করে নাকো খোজ।
মানুষের ভালো লাগে কালো রঙা চুল।
তবু কেন সাদা দেহ পাইতে ব্যাকুল?
তরুণী ভেবে যায়; রঙটাই সব?
মূর্খ এ সমাজের আদিম স্বভাব!
কালো মেয়ে লিখে যায় পদ্য-গান,
কালো সাদা বিভেদের করো অবসান!

ঐ দেখা যায় সংসদ

ঐ দেখা যায় সংসদ, ওই আমাদের দেশ।
ঢুকলে সেথায় ভালো মানুষ, দেশটা হতো বেশ!




বিষণ্ণতা

বিষণ্ণতার ওষুধ আছে? মন খারাপের?
এক পাতা দাও, না না দুই পাতা দাও!
না হয় একটা কাজ করো ভাই, স্যালাইন লাগাও,
শিরাতে নয়, হাড়ের ভেতর।
বুঝলে ভ্রাতা?!
বিষণ্ণতা! আহা, বিষণ্ণতা!
বিকেল এলেই, ঝাপ্টে ধরে।
হয়নি তোমার? কোনো কালে?
তাহলে আর বুঝবে কি তা!
কঠিন অসুখ, বিষণ্ণতা।
তখন ভীষন একলা লাগে, হৃদয় জুড়ে কান্না জাগে।
হ্যা! হ্যা! অকারনেই কান্না জাগে।
দম আটকায়, মন আটকায়, ওষ্ঠাগত হয় হৃদয়।
তারপরেকি! চুপ হয়ে যাই। ভাল্লাগেনা ধুত্তুরি ছাই!
তোমার কাছে, ওষুধ আছে?
সুই দিয়ে দাও। কিংবা বড় স্যালাইন লাগাও।
শিরাতে নয়, হাড়ের ফাঁকে, বিষণ্ণতার দূর্বিপাকে।

হৃদয় তুমি মূল্য দিও

হৃদয় তুমি মূল্য দিও, মূল্য দিও অনুভূতির,
একটু খানি চোখের পানির,
কিংবা কারো মুচকি হাসির।
তোমার পানে ছুড়ে দেয়া অভিমানের; মূল্য দিও।
মূল্য দিও ভালোবাসার,
তোমার খবর রাখছে যারা খুব মমতায়,
জ্বালছে আলো, দিচ্ছে আশা ঘোর হতাশায়।
তুমি তাদের মূল্য দিও।
তোমায় দেয়া সময়টুকুর মূল্য দিও।
মূল্য দিয়ো তাদের তুমি; যারা তোমায় পথ দেখালো,
দ্বীন শেখালো ধৈর্য ধরে।
কিংবা যারা সঙ্গ দিলো, সীরাত নিলো মুস্তাকিমে।
তুমি তাদের মূল্য দিও।
মূল্য দিও নৈশ দোয়ায়, রবের নিকট মাথা নুয়ে।

ভালোবাসবো বলে

ভালোবাসবো বলে,
ফাকি দিলো মেঘ, ফাকি দিলো বৃষ্টিরা অবিরাম।
তুফান তরঙ্গও থেমে গেলো, বাষ্পরা জমে গেলো বরফে।
ভালোবাসবো বলে,
ঝরে গেলো সব ফুল অকালে, মুছে গেলো বর্ণিল পাখিদের সব রঙ।
ঝুপ করে নেমে এলো সন্ধ্যারা নীরবে।
ভালোবাসবো বলে,
তুমিওকি হারাবে সুদূরে! আলাপেরা বিলাপে নিবে রূপ?
নিশ্চুপ হবে সব কবিতা?

এলোমেলো ভাবনা

(এক)
সদ্য পাশ করা ডাক্তারদের ব্রাহ্মণ সুলভ সম্মান পাওয়ার জন্য ফেসবুকে মাতম না করে চিকিৎসার ময়দানে ঝাপিয়ে পড়া উচিত।
ফেসবুক ছেড়ে রোগীর সেবা করুন, মানুষ এমনিতেই আপনাদের মাথায় তুলে রাখবে, প্রাণভরে দোয়া করবে। আর দায়িত্বরত অবস্থায় ফেসবুকিং করতে গিয়ে রোগীকে অবহেলায় ফেলে রেখে রোগীর আত্মীয়দের মার খেয়ে ব্রাহ্মণ হওয়া যায়না সেটাও মনে রাখতে হবে।

তিনি চিরঞ্জীব

স্থায়ী নয় রাত্রিগুলো, স্থায়ী নয় দিন,
স্থানী নয় তোমার আমার স্বপ্ন সীমাহীন।
স্থায়ী নয় কাব্য কথা, স্থায়ী নয় গান,
স্থায়ী নয় ভালোবাসা, তীব্র অভিমান।
স্থায়ী নয় কষ্ট ব্যথা, স্থায়ী নয় শোক,
স্থায়ী নয় আনন্দ আর অশ্রু ভেজা চোখ।
স্থায়ী নয় জীবন জগৎ, স্থায়ী নয় গোর,
স্থায়ী নয় পূর্ণিমা রাত, কিংবা শিশির ভোর।
স্থায়ী নই তুমি আমি, অ'স্থায়ী সব,
চিরস্থায়ী তিনিই রবেন; যিনি আমার রব।

ভালোবাসি মোহ

একদিন মোহ কেটে যাবে, টুটে যাবে ঘোর।
এইসব কথামালা, ডুবে যাওয়া স্বপ্নে বিভোর,
সব ভুলে তুমি আমি একদম অচেনা!
আহা! মোহ কেটে যাবে, ভুলে সব ঠিকানা।
কেন বলো কেটে যায় মোহ, টুটে যায় ভালোবাসাবাসি,
একাকী বিকেল জুড়ে অনুভূতি, খুনসুটি আর হাসাহাসি।
কেন বলো অনুভূতি হাহাকার এতটা পোড়ায়,
আবেগের বাড়াবাড়ি নিদারুণ নাকাল হৃদয়।
জানি, একদিন মোহ কেটে যাবে, টুটে যাবে ঘোর,
কেটে যাবে আবেগী সময়, স্বপ্নালু সোনালি প্রহর।
তারপরও ভালোবাসি মোহ, ভালোবাসি ঘোর,
উষ্ণতা খুঁজে ফিরি, ডুবে রই স্বপ্নে বিভোর।

মায়া

শিরোনাম নেই, বন্ধন আছে।
আছে অনুভূতি, আবেগের ছায়া।
সম্পর্কের নাম খোঁজো যদি, বুঝে নিও তবে;
এর নাম মানবিক মায়া।

বিজয় তোমাদেরই হোক

তবে তাই হোক, জয় তোমাদেরই হোক!
যবে আসবে বিজয়, শুধু মনে রেখো,
আমি তোমাদেরই লোক।

© শামীম রেজা
২৪/১২/২০১৬








তোমায় আমি মিস করি

সত্যি আমি মিস করি, তোমায় ভীষণ মিস করি।
যখন আমার ভাত পুড়ে যায়, কিংবা যখন হাত পুড়ে যায়,
মলম টুকু বাদই দিলাম, একটু খানি লবণ না হয় লাগিয়ে দিতে,
ভেঙেই দিতে ডিমের কুসুম; কপট রাগে!
সত্যি আমি মিস করি, তোমায় ভীষণ মিস করি।
একটু খানি ঠাণ্ডা জ্বরে; খাই যখনি হাবু ডুবু, কিংবা যখন কাজের চাপে ভীষণ কাবু,
আদা দিয়ে এ টুকু চা; তুমিই না হয় বানিয়ে দিতে।
রাত যখনি গভীর হতো, ঘুম কাতুরে আমায় তুমি মশারিটা টানিয়ে দিতে।
সত্যি আমি মিস করি, তোমায় ভীষণ মিস করি।
যখন আমি একলা ছাদে, মুগ্ধ হয়ে চাদের ফাঁদে,
কাব্য লিখি, স্বপ্ন লিখি, গল্প বানাই স্বপ্ন নিয়ে,
তখন আমি মিস করি, তোমায় ভীষণ মিস করি।
এমনি করে সন্ধ্যা সাঁজে, আমার শত কাজের মাঝে,
তোমায় ভীষণ মিস করি, সত্যিকারে মিস করি।

কদমতলী গাঁ

কদমতলী গাঁয় পাইনি কদম গাছ,
গায়ের মানুষ কাঠ কাটে আর ধরে নদের মাছ।
জলের পুকুর লবন মাখা, মিষ্টি পানি শেষ,
বৃষ্টি ঝরে রহম হয়ে চলছে তাতে বেশ।
মাঠ জুড়ে নাই সবুজ ফসল, মিষ্টি পানির খরা,
এক ফসলে তুষ্ট থাকে গাঁয়ের কৃষাণ যারা।
কাজের অভাব গরীবি তাই ছাড়ছেনা আর পিছু,
মেম্বার সাব ডেকে বলে, করেননা ভাই কিছু!
গাঁয়ের কৃষাণ, দুস্থ নারী, এতিম শিশুর জন্য,
কাজ দিয়ে যান, দু:খ ঘোচান, পাক তাহারা অন্ন।

মনের বাড়ি

পথ গিয়েছে বনের দিকে, বনই মনের বাড়ি,
নগর জীবন বিদায় দিলাম, নগর তোমায় আড়ি।





মজার চা

খাটি দুধের চা, খাটি দোকানি,
এমন মধুর চা আগে খাইনি।




খুলনার পথে

বনের আধার নেমেছে পথে,
রাত হয়ে এলো খুলনা যেতে,
হয়নি পথের শেষ।
ক্লান্তি বিহীন জার্নি তবু লাগছে ভালো বেশ!

আরিচা ফেরি

সাদা মেঘ, নৌকা, ঘোলা মিঠে জল,
রৌদ্দুরে চোখ জ্বালা, জল ছল ছল।



ঘর কুনো মন

ঘর কুনো মন, করিয়াছে পণ!
যাবে; যাবেই আজ সুন্দরবন।



পোষ মানা

বনের পশু পোষ মানে।
মনের মানুষ পোষ মানে?
পোষ মানুক আর দোষ মানুক,
আমরা আছি খোশ মনে।

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ

উত্তাল তরঙ্গ আর ঘন আঁধার চিরে,
বিজয়ী নাবিকের দল, ফিরে আসে নীড়ে।