ছোট বেলায় বাসে উঠলে প্রায়ই দেখতাম ভাঙাচোরা ক্যাসেট প্লেয়ারে ওয়াজ মাহফিল চালিয়ে দিচ্ছেন বাস ড্রাইভার। ওয়াজ শুনতে শুনতে গন্তব্যে পৌছে যেতাম। ওয়াজ শুনে আমাদের আত্মা পরিশুদ্ধ হতো, বাস ড্রাইভার অর্জন করতেন আল্লাহর সন্তুষ্টি। এ ধরণের ড্রাইভারকে সাধারণতো যাত্রীরা সম্মানের চোখে দেখতো। চালকের ভুল ত্রুটির জন্য গালি দিতে গিয়েও সঙ্কোচ হতো।
এখন আমরা আধুনিক হয়েছি, যাত্রী সেবার মান উন্নত হয়েছে, গণপরিবহনে যুক্ত হয়েছে এলসিডি মনিটর। মনিটরে অবিরাম প্রদর্শিত হচ্ছে হিন্দি গান, গানের সাথে চলছে অর্ধনগ্ন নায়ক-নায়িকার অশ্লীল সব অঙ্গভঙ্গি। মা-বাবার পাশে বসে সে দৃশ্য গিলছে শিশুরা, কলেজ পড়ুয়া মেয়ের পাশে বিব্রত বাবা, সন্তানের পাশে বিব্রত মা, বিরক্ত অসুস্থ মানুষ, নির্বিকার আম জনতা। ব্যাকগ্রাউন্ডে ইবলিসের অট্টহাসি!
এদৃশ্য চেঞ্জ হতে পারে, পরিবহন মালিকরা এক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারেন। সমাজে তাবলিগের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাবলিগের পক্ষ থেকে পরিবহন চালক-শ্রমিকদের মাঝে সচেতনতামূলক দাওয়াতি তৎপরতা চালানো যেতে পারে। মসজিদের ইমাম-খতিব সাহেবরা তাদের বয়ানে এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। আর সর্বোপরি নিজ নিজ অবস্থান থেকে যাত্রীরা প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ করতে পারেন।